স্বর্ণদ্বীপ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

    স্বর্ণদ্বীপ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

    নোয়াখালী জেলার অন্তভুক্ত সম্ভাবনার স্বর্ণদ্বীপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্তিশালী এবং দক্ষ সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই।আর বাস্তবমুখী এবং উন্নত প্রশিক্ষণ ছাড়া দক্ষ সৈনিক পাওয়া সম্ভব নয়।কিন্তু এধরনের প্রশিক্ষণের পূর্বশর্ত যে বিশাল ও উন্মুক্ত জায়গা,দীর্ঘদিন তার অভাব ছিল সেনাবাহনীর।

    দ্বীপটি সেনাবাহিনীর উন্নত এবং সকল প্রকার আধুনিক সু্যোগ সুবিধা সম্পন্ন বহুমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ করবে।এছাড়াও এখানে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ মহড়া বা প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়ে থাকে।এরই মধ্যে ২০ হাজার এর বেশী সৈনিকের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে দ্বীপটিতে। এখন চলছে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকা নির্মাণের মহাপরিকল্পনা।ভবিষ্যতে দ্বীপটি এশিয়ার মধ্যে সেরা ও আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সেনাবাহিনী।

    আগে জাহাইজ্জ্যার চর নামে পরিচিত এই দ্বীপটি ছিল দুর্ধর্ষ ডাকাত ও জলদস্যুদের অভয়ারণ্য।স্থানীয় মানুষদের আতংকের কারন ছিল ভৌগলিকভাবে দুর্গম এই দ্বীপটি।কিন্তু ২০১৩ সালে ৩৬০ বর্গকিলোমিটারের নোয়াখালীর জাহাইজ্জ্যার চর সেনাবাহিনীকে বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকে দ্বীপের অবস্থা পুরো পাল্টে যায়। চরটিকে স্বর্ণদ্বীপ নাম দেয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী এ চরে অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়। এর পর ব্যবসায়ী ও জেলেরা স্বাভাবিক জীবন-যাপনসহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এতে এসব এলাকার লোকজনের নিরাপত্তা ও জীবনমানের পরিবর্তন হচ্ছে।

    প্রায় জনবসতিহীন ৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশাল এই স্বর্ণদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়ার হাতে।প্রত্যেক বছর ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ৭টি ব্রিগেড গ্রুপ এখান থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকে। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। দ্বীপটিতে আনুমানিক ৬০ হাজার ঝাউগাছ, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামের ১৫শ’ সিয়াম নারকেলের চারা ও ১৭শ’ ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। এখানে মহিষ, হাঁস, মুরগি, ভেড়া ও বিভিন্ন পশু পালন শুরু হয়েছে। মহিষের দুধের পনিরের কারখানাও স্থাপন হয়েছে।সেনাবাহিনী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের যৌথ সহায়তায় এরইমধ্যে স্বর্ণদ্বীপে ২টি সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হয়েছে। এসব শেল্টারে ২০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং গ্রিন এনার্জির উৎস হিসেবে সোলার বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ২টি লেক খনন করা হয়েছে। সুপেয় পানির জন্য ১ হাজার মিটার গভীর সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প খনন এবং বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এদিকে স্বর্ণদ্বীপকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীর ভাঙা-গড়ার হাত থেকে রক্ষা করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সেনাবাহিনী। এ জন্য ৭২ হাজার একর এলাকায় বড় পরিসরে বনায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    জাহাজির চর হল বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত। অতীতে চট্টগ্রাম-ঢাকা-খুলনা-নারায়ণগঞ্জে বঙ্গোপসাগরের নোয়াখালীর সুবর্ণচর মোহনা হয়ে বড় বড় জাহাজ চলাচল করত। ১৯৯২-১৯৯৭ সালের দিকে এই চরে একটি জাহাজ আটকে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। সেই সময় থেকে এ চরটি জাহাইজ্জার চর নামে পরিচিত লাভ করে। ২০১৩ সালে দ্বীপটি উন্নয়নের জন্য সেনাবাহিনীকে দেয়া হলে সেনাবাহিনীর দ্বীপটির নাম পরিবর্তন করে স্বর্ণদ্বীপ রাখে। অতীতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ার অনেক ডাকাত ও জলদস্যুরা ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে এই চরে আত্মগোপন করত। ২০১৩ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশ সরকার জলদস্যুতা মোকাবেলা করার জন্য দ্বীপটিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করে।

    Top