For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.

সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে নোয়াখালীর উপকূল

নোয়াখালীর উপকূল সম্ভাবনার এক বিশাল আধার। নোয়াখালী উপকূল এর চেয়ারম্যান ঘাট এলাকা তথা মেঘনার মোহনায় সমুদ্রবন্দর এর জন্য যথোপযুক্ত স্থান। এই চ্যনেলের গভীরতা মংলা, পায়রা বন্দরের চেয়ে বেশি। নোয়াখালী উপকূল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম সিলেট এর সাথে রয়েছে সুষ্ঠ সড়ক যোগাযোগ। এই ভৌগলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে উক্ত চ্যনেলে সমুদ্রবন্দর নির্মান করলে নোয়াখালী সহ সারা দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে।
নোয়াখালীর উপকূলে মেঘনা মোহনায় নতুন নতুন ভূমি জেগে উঠছে। এসব ভূমির সঠিক ব্যবহারে লাভবান হবে দেশ। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ কৃষিপ্রধান দেশ। নতুন নতুন কলকারখানা তৈরীতে নতুন করে বিপুল পরিমানে ভূমি অধীগ্রহনের প্রয়োজন হচ্ছে; যা আমাদের মত ঘনবসতিপূর্ন দেশে খুবই কঠিন, ব্যয়সাপেক্ষ । এই উপকূলে সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরিতে প্রয়োজনীয় খাস জমি বিদ্যমান। নোয়াখালীর নেতৃবৃন্দ ও দেশের নীতিনির্ধারণী মহলের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি ; তাঁরা যেন এই অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহন করেন। প্রস্তাবিত সমুদ্র বন্দরের সাথে আরো কিছু প্রকল্পের সমন্বয়ের মাধ্যমে নোয়াখালীকে দক্ষিন এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ন ইকোনোমিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার ডেল্টা প্ল্যনের-২১০০ এর আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের শক্তিশালী টেকসই বেড়িবাঁধ ও ২লেনের মটরওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নারায়নগঞ্জ থেকে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর পুর্ব পাড়ে এই প্রস্তাবিত বাঁধের উপর একটি চারলেনের জাতীয় মহাসড়ক নির্মান করে প্রস্তাবিত সমুদ্রবন্দরের সাথে যুক্ত করে এবং চট্টগ্রামের মেরিনড্রাইভের সাথে যুক্ত করলে একটি বিকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক তৈরী হবে। এছাড়া ভোলা-লক্ষ্মীপুর সড়ক নেটওয়ার্কেও এই মহাসড়কে সহজেই যুক্ত করা যাবে। এই সড়ক নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে খুলনা-বরিশাল-নোয়াখালী-চট্টগ্রাম তথা দেশের সমগ্র উপকূল কে এক সুত্রে গাঁথা যাবে। মেঘনা মোহনায় জেগে উঠা নতুন ভূমিতে নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষনের জন্য উপরোক্ত প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য বাস্তাবায়নে গতি আসবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে জাহাজ জট, পণ্য নিয়ে আসা জাহাজের বার্থিং পেতে সময়ক্ষেপন, পণ্য হ্যান্ডলিং ডেলিভারিতে ধীরগতি, লাইটার জাহাজ ও জেটি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এখন চট্টগ্রাম বন্দর। যার ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে শুধু ব্যবসায়ীদেরকে নয় রাষ্ট্রকেও। এমতাবস্থায় নোয়াখালী উপকূলে মেঘনা মোহনায় চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় একটি গভীর কিংবা গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এখন মাত্র ১৯ টি জেটি আছে, যে হারে আমদানি-রপ্তানি বেড়ে চলছে তাতে আগামী দশ বছর পর ৬০টি জেটির প্রয়োজন হবে বলে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীগণ জানিয়েছেন। এমতাবস্থায় প্রাথমিকভাবে জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা মাথায় রেখে এখনি প্রস্তাবিত নোয়াখালী সমুদ্র বন্দর স্থাপনের প্রকল্প একনেকে পাস করা হোক।
পণ্য লোড-আনলোড করতে জাহাজকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে অপেক্ষা করতে হয় যেটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ।বিশ্বের কোন আধুনিক সমুদ্রবন্দরে এমনটি চলতে পারেনা। বাংলাদেশকে যদি উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে হয় তাহলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অবশ্যই গতি আনতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নোয়াখালী উপকূল এ মেঘনা মোহনায় চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় একটি নতুন সমুদ্র বন্দর স্থাপন অতি অবশ্যই করতে হবে। নোয়াখালী উপকূল এলাকায় চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় সমুদ্র বন্দর স্থাপিত হলে এটি হবে বাকি তিনটি সমুদ্রবন্দরের চাইতে রাজধানী ঢাকার কাছের একটি সমুদ্র বন্দর । সুতরাং নোয়াখালী উপকূলে সমুদ্র বন্দর স্থাপনের জন্য অতি দ্রুত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে ডিপিপি প্রণয়ন পূর্বক প্রকল্প একনেকে পাশ করার জন্য আমরা নোয়াখালীবাসী সদাশয় সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাননীয়, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং মাননীয় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন জানাই।

Top